1. admin@dailysangbadpatro.com : admin :
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:২৪ অপরাহ্ন

২৭ দিনে চার বার কমল টাকার মান

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৩ মে, ২০২২
  • ৬৯ বার পঠিত

বেড়েই চলেছে ডলারের দাপট। বিপরীতে কমছে টাকার মান। আমদানির চাপে সংকট তৈরী হওয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবুও নিয়ন্ত্রণহীন ডলারের বাজার। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের নির্ধারিত দামের ১০-১৫ টাকা বেশিদামে ডলার ক্রয়বিক্রয় চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে নিয়মিত বিরতিতে টাকার মান কমানো হচ্ছে। গত ২৭ দিনে ডলারের বিপরীতে টাকার মান চার দফায় এক টাকা ৭০ পয়সা কমানো হয়েছে।

সবশেষ সোমবার (২৩ মে) প্রতি মার্কিন ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এক দিনেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে আরও ৪০ পয়সা।

দাম বাড়ানোর ফলে গতকাল আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হয়েছে ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা। এক দিন আগেও প্রতি ডলারে লেগেছিল ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। গত ১০ মে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ২৭ এপ্রিল ছিল ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। ব্যাংকগুলো নগদ ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বেশি দরে। ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে ৯৭ থেকে ৯৮ টাকায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ব্যাপক হারে আমদানির চাপ বেড়েছে। ফলে আমদানির দায় পরিশোধে বাড়তি ডলার লাগছে। কিন্তু সেই তুলনায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়েনি। ফলে ব্যাংক ব্যবস্থায় ও খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ কারণে টাকার বিপরীতে বাড়ছে ডলারের দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর চাহিদার বিপরীতে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানিসহ অন্যান্য দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দেশের আমদানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই ডলারের দাম পুনঃনির্ধারণ করে ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ করছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়নের বেশি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। যখনই প্রয়োজন হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সরবরাহ করছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়, যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। ২০২১ সালের আগস্টের শুরুতেও আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের মূল্য একই ছিল। ৩ আগস্ট থেকে দু-এক পয়সা করে বাড়তে বাড়তে গত বছরের ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো ৮৫ টাকা ছাড়ায়। এ বছরের ৯ জানুয়ারি এটি বেড়ে ৮৬ টাকায় পৌঁছে। এরপর ২২ মার্চ পর্যন্ত এ দরেই স্থির ছিল। পরে গত ২৩ মার্চ আন্তঃব্যাংকে আরও ২০ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়ায়। ২৭ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সায়। ১০ মে বাড়ে আরও ২৫ পয়সা। ১৬ মে বাড়ে ৮০ পয়সা। আজ ২৩ মে বাড়লে ৪০ পয়সা। ফলে এখন আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৮৭ টাকা ৯০ পয়সায়। যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ মূল্য। অর্থাৎ গত ৯ মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারে দর বেড়েছে তিন টাকা ১০ পয়সা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ © দৈনিক একুশের আলো ©
Theme Customized By Theme Park BD