Welcome
আন্তর্জাতিক খেলাধুলা জাতীয় বিনোদন ব্রেকিং নিউজ

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ তম জন্মদিনে আজ দেওয়া হবে ৭৫ লাখ টিকা!

এসকে জামান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আজ সারা দেশের ৭৫ লাখ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হবে। বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সব ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল নয়টা থেকে শুরু হবে এ কার্যক্রম। অধিকাংশ টিকা দেওয়া হবে সিনোফার্মের। যারা ইতোমধ্যে নিবন্ধন করেছেন শুধু তাদেরই এ টিকা দেওয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন যারা নিবন্ধন করেও টিকা নিতে পারছেন না তাদের ভোগান্তি কমবে। নিবন্ধন ছাড়া পঞ্চাশোর্ধ্ব কেউ কেন্দ্রে এলে তাদের স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুরুর প্রথম ২ ঘণ্টা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স্ক জনগোষ্ঠী, নারী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের টিকা প্রদান করা হবে।

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে বিশেষ টিকা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। রোববার অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এদিকে সোমবার বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার সারা দেশে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে করোনার ৭৫ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে। ২৫ বছরের বেশি বয়সি ব্যক্তিরা এই টিকা পাবেন। তবে এজন্য তাদের আগে নিবন্ধন থাকতে হবে এবং মোবাইলে পেতে হবে এসএমএস। এর বাইরে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আরও পাঁচ লাখ টিকা দেওয়া হবে। বিশেষ ক্যাম্পেইনে শুধু প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হবে। যারা প্রথম ডোজ নেবেন, তাদের ২৮ অক্টোবর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। টিকা নেওয়ার জন্য সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিকা কার্ড সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। স্তন্যদানকারী মা ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এই টিকার আওতায় আসবেন না।

আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আরও বলেন, বিশেষ ক্যাম্পেইনে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের যে কোনো একটি ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্র থাকবে। পৌরসভায় প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে বুথে টিকা দেওয়া হবে। স্থানীয়ভাবে বুথ কমানো-বাড়ানো যাবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দেড় হাজারের বেশি, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫০০ বা এর বেশি এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ হাজার বা এর বেশি টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া নিয়মিত যেসব কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শেষ টিকা প্রদানের পর আমাদের টিম এক ঘণ্টা অবস্থান করবে। স্থানীয়ভাবে টিকাদানের সময় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারবে।


জানতে চাইলে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য ড. এএসএম আলমগীর বলেন, যারা নিবন্ধন করেছেন তাদেরই অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। এর ফলে নিবন্ধনের জট অনেকটা কমে আসবে। তবে টিকার জন্য যে কেন্দ্রে নিবন্ধন করেছেন সেখান থেকেই নিতে হবে এমনটা নয়। যেমন কেউ যদি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো কেন্দ্রে নিবন্ধন করে থাকেন তাহলে উনি এ সিটির যে কোনো কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবেন। তবে উত্তরে নিবন্ধন করে কেউ দক্ষিণ সিটির কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, বিশেষ ক্যাম্পেইনের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আশা করি সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে এ কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ ক্যাম্পেইনের জন্য রাজধানীসহ সারা দেশে চার হাজার ৬০০টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে তিনটি, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভায় একটি করে ও সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে ৪৩৩টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। বিশেষ ক্যাম্পেইন সফল করতে ৩২ হাজার টিকাদানকারী এবং ৪৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবীসহ মোট ৮০ হাজার মানুষ সম্পৃক্ত থাকবে।

ডিএনসিসিতে দেওয়া হবে ৬০ হাজার টিকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ৬০ হাজার টিকা দেওয়া হবে আজ। সোমবার দুপুরে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১ হাজার করে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকার তিনটি বস্তিতে আরও এক হাজার করে টিকা দেওয়া হবে। এর বাইরে আরও তিন হাজার টিকা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেগুলোও দেওয়া হবে। গণটিকার বিষয়টি প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। টিকাকেন্দ্রেগুলোর ব্যবস্থাপনায় থাকবেন

ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।
ডিএনসিসির এই কর্মকর্তারা জানান, গণটিকা কার্যক্রম হলেও এবার শুধু নিবন্ধনকারীরাই টিকা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। আগের গণটিকা কার্যক্রমগুলোর মতো এবার জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আনলেই টিকা দেওয়া হবে না। গণটিকা কার্যক্রমে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তি, মহাখালীর সাততলা বস্তি ও মিরপুরের ভাষানটেক বস্তিতে এক হাজার করে টিকা দেওয়া হবে। সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শুধু বস্তিবাসীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ছাড়া টিকাদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে বস্তিবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন তাদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করবে।

Related posts

লকডাউনকে কেন্দ্র করে শিমুলিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের চাপ

admin

পাথরঘাটা কাকচিড়ায় বেড়িবাঁধ মজবুত না থাকায় ঘূর্ণিঝড় ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

admin

বন্ধ হলো পাবজি ও ফ্রি ফায়ার!

admin

Leave a Comment

Translate »