Welcome
জাতীয় ব্রেকিং নিউজ ভিডিও নিউজ

খুলনা নগরীর মুজগুন্নী মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

স্টাফ রিপোর্টার:  খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে এক অংশের সাথে অপর অংশের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতায় এমন একটি সড়ক কতটা ব্যবহার অনুপোযোগী হতে  পারে, তা দেখতে হলে সরেজমিন যেতে হবে মুজগুন্নী মহাসড়কে।

খুলনা বিভাগের একমাত্র বিশেষায়িত শেখ আবু নাসের হাসপাতাল, ৫০০ শয্যার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বেসরকারি ক্লিনিক, মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন, বিজিবি’র খুলনা সেক্টর সদর দপ্তর, খুলনার শীর্ষস্থানীয় তিনটি স্কুল-কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, বয়রা বাজার, কেডিএ’র দুটি বৃহৎ আবাসিক এলাকা অবস্থিত খুলনা সিটি করপোরেশনের মুজগুন্নী মহাসড়কের দুই পাশে। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই মহাসড়কটি। কিন্তু সংষ্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অবস্থা বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও শোচনীয় । মহাসড়কের কিছু দূর পর গেলেই এখন লাল নিশানা টাঙানো সতর্কীকরণ, যা দেখলেই সড়কের প্রকৃত চিত্র বোঝা যায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে বিটুমিন উঠে গেছে আরও দুই/তিন বছর  আগে। সেখানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। বৃষ্টিতে গর্ত রূপ নিয়েছে বড় ডোবায়। সেই গর্ত দিয়ে হেলেদুলে চলছে যানবাহন। প্রায়ই সেখানে ইজিবাইক উল্টে যাচ্ছে। কাদাপানিতে নাকাল হচ্ছেন মানুষ। মুজগুন্নীসহ আশপাশের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের কষ্টের নাম এখন ‘মুজগুন্নী মহাসড়ক’।

এমন দুর্ভোগের মধ্যে সড়কের একপাশ খুঁড়ে বিদ্যুতের তার বসাচ্ছে পিডিবি। এতে চার লেনের সড়কের দুই লেন বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সড়ক দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। উল্টে যাওয়ায় রিকসা চলাচলও প্রায় বন্ধ। এখন ইজিবাইকে করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ঐ এলাকার মানুষ।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) থেকে জানা গেছে, নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে বয়রা বাজার হয়ে নতুন রাস্তা পর্যন্ত সড়কের নাম মুজগুন্নী মহাসড়ক। প্রায় ৬ কিলোমিটার  সড়কটির সর্বশেষ সংস্কার করা হয় ২০১২ সালে। সংস্কারের অভাবে এর পুরোটাই খানাখন্দে ভরে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বয়রা বাজার থেকে নতুন রাস্তা মোড় পর্যন্ত। অন্য অংশে খুমেক হাসপাতাল ও পূজাখোলার সামনেসহ ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ।

ইজিবাইকে করে সড়ক পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে, ৬ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লেগেছে পৌনে এক ঘন্টা। বৃষ্টির কারণে খানাখন্দগুলো পানিতে পরিপূর্ণ ছিলো। তিন দফায় গর্তে পড়ে ইজিবাইক উল্টে যেতে বসেছিলো। ঝুঁকি চরমে পৌঁছানোয় ৩টি স্থানে লাল কাপড় দিয়ে গর্ত চিহ্নিত করে দিয়েছে স্থানীয়রা। এতো ভাঙ্গাচোরা আর এতো দুর্ভোগ অন্য কোনো সড়কে দেখা যায় না।

সড়কের ভাঙ্গাচোরার কারণে সেখানে যানবাহনও অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী বহনকারী বাসগুলো চলাচল বন্ধ। সড়কটি পরিদর্শনের সময় রিকসাও খুব একটা চোখে পড়েনি। সড়কের দুর্ভোগের সঙ্গে যানবাহন সংকটও বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

মুজগুন্নী মহাসড়কের এই দুরাবস্থার কারণে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বহনকারী পরিবহন আগেই বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ঐ সড়কের আসে পাশে ও মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা বৃষ্টির  মধ্যে পড়েছেন বিপাকে। একই অবস্থা বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের।

মহাসড়কের পাশে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) লাইন। এর প্রধান ফটকের সামনে বিশাল দুটি গর্ত। ওই গর্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় পুলিশ সদস্যদের।

কেএমপির উপ-কমিশনার (সদর দপ্তর) এহসান শাহ্ বলেন, প্রতিদিন সড়ক দিয়ে আসা যাওয়া কতো যে দুর্ভোগের এটা বলে বোঝাবার নয়। দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।

কেসিসি থেকে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় মুজগুন্নী মহাসড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণ শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও মেরামত প্রকল্পের আওতায় এটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। সেই প্রস্তুতিও চলছে।

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ড্রেন না থাকার কারণে বৃষ্টির সময় পানি জমে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য আগে ড্রেন নির্মাণ, পরেই সড়ক সংস্কার করা হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি শীতেই ড্রেনের কাজ শুরু হবে। আর এই কাজ শেষে আগামী বছর সড়ক সংস্কার কাজ হবে। অবশ্য এর আগে ইট ও সুড়কি দিয়ে খানাখন্দ সড়কটি মেরামত করে চলাচল উপযোগী করা হবে।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধেই। তারা জানিয়েছেন, ৮/৯ বছর আগে সর্বশেষ সংস্কারের আগে  মহাসড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য তাদের বলা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি বিবেচনা  না করে যেনতেনভাবে সংস্কার করা হয় মহাসড়কটি।

ফলে কিছু দিনের মধ্যেই তা আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এরপর গত দুই বছরে দফায় দফায় তাদের বিষয়টি অবহিত করা হলেও গুরুত্ব দেয়নি। ফলে বর্তমানে মহাসড়কটি  মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এখন প্রাক্কলন তৈরির যে কথা প্রকৌশলীরা বলছেন, তা গত দুই বছর ধরে শুনে আসছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। 

‘নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না বলেন, খুলনা মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুজগুন্নী মহাসড়কটি দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা হাজার হাজার যাত্রী। খুলনা বিভাগের একমাত্র বিশেষায়িত শেখ আবু নাসের হাসপাতাল ও ৫০০ শয্যার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা যাওয়া করা রোগীদের সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগ পোহাতে হয় এ সড়কের কারণে। সড়কটির পিচ, কার্পেটিং, ইট উঠে গেছে। অনেক জায়গায় মাটি বের হয়ে আছে। সড়কটিতে যান চলাচল তো বটেই, হেঁটে চলাও দায়। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে সড়কে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বড় বড় খানাখন্দে ভরে থাকায় সড়কে প্রতি নিয়ম ঘটছে দূর্ঘটনা। মানুষের এত দূর্ভোগ হলেও সড়ক সংষ্কারে কর্তৃপক্ষের উদাসিনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে ক্ষীপ্ত হচ্ছেন এ সড়ক দিয়ে চলাচলাকারীরা। সিটি কর্পোরেশনের কাছে অনতিবিলম্বে সড়ক সংস্কার করে মানুষের এ মহাদুর্ভোগ থেকে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

Related posts

করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ১১২ জনের মৃত্যু

admin

যে কারণে বেগম জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো না

admin

যাত্রাবাড়ীর একটি বাসায় ঢুকে মা-মেয়েসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত

admin

Leave a Comment

Translate »