অগাস্ট ৩, ২০২১
Welcome
আইন ও বিচার আন্তর্জাতিক খেলাধুলা জাতীয় ধর্ম ও জীবন নিউজ প্রবাস সংবাদ বাংলাদেশ বিনোদন ব্রেকিং নিউজ ভিডিও নিউজ

টিকটকে তরুণীদের টার্গেট করে চাকরির প্রলোভনে বিদেশে পাচার

 

একুশের আলো রিপোর্ট | ভারতে এক বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ঘটনা তদন্তে নেমে আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। চক্রটি টিকটকের মাধ্যমে প্রথমে তরুণীদের টার্গেট করে। পরে চাকরির প্রলোভনে তাদের বিদেশে পাচার করা হয়। সেখানে নেয়ার পর তাদের জোর করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে চক্রের সদস্যরা।

পুলিশ বলছে, টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে তরুণ-তরুণীরা পারস্পরিক পরিচয়ের সূত্র ধরে একটি ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়। এমন কিছু গ্রুপের অ্যাডমিনরাই মূলত আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্রের সদস্য। যার মাধ্যমে স্কুল-কলেজপড়ুয়া বখে যাওয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গৃহিণীদের টার্গেট করে বিদেশে চাকরির প্রলোভনে পাচার করা হয়।

ঘটনা তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এই নারীপাচার চক্রটির নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের কিছু এলাকাসহ দুবাই এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে চক্রটির নেটওয়ার্ক রয়েছে।

গতকাল শনিবার (২৯ মে) দুপুরে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ এসব কথা জানান।

ডিসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, টিকটকের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া তরুণ-তরুণীদের নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের একটি গ্রুপ পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। যে গ্রুপের অ্যাডমিন এবং পৃষ্ঠপোষক ওই চক্র। একটি গ্রুপের অ্যাডমিনের তত্ত্বাবধানে গত বছরের শেষ দিকে ঢাকার পাশের একটি জেলায় পুলপার্টির আয়োজন করা হয়। ওই পার্টিতে প্রায় ৭০০-৮০০ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। এই গ্রুপ থেকেই নারীদের টার্গেট করে বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভনে পাচার করা হয়।

ভারতের ওই তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে এ চক্রের মাধ্যমে আরও অনেক তরুণী পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাচার হওয়া তরুণীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এমন আরও গ্রুপ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বলেন, ভারতে এ চক্রটির মূল আস্তানা ব্যাঙ্গালুরুর আনন্দপুর এলাকায়। মূলত পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করতেই বিভিন্ন বয়সীদের ভারতে পাচার করা হয়। তাদের সঙ্গে সেখানকার স্থানীয় কিছু হোটেলে চুক্তি থাকে। সে অনুযায়ী তারা টাকার বিনিময়ে নারী সরবরাহ করে।

পাচার হওয়া তরুণীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করতে তাদের নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে বিবস্ত্র করে ছবি-ভিডিও করা হয় কিংবা নির্যাতন করা হয়। তাদের কথামতো অনৈতিক কাজ করতে রাজি না হলে সেসব ছবি-ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। তাদের হাতে রাখতে এবং বাধ্যতামূলকভাবে অনৈতিক কাজ করতে এটা ব্ল্যাকমেলিংয়ের কৌশল।

ভিডিও ভাইরালের পর ভারতেও বিষয়টি আলোচিত হয়। পরে ভারতীয় পুলিশ দ্রুত সময়ে তাদের গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধারসহ মূল অভিযুক্ত টিকটক হৃদয় এবং আরও চারজনকে গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া গেছে। যারা প্রত্যেকেই অবৈধভাবে ভারতে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের কাছে ভিসা কিংবা পাসপোর্ট কিছুই ছিল না।

এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মমানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছে। সে অনুযায়ী জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হচ্ছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ভারতেও মামলা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু তারা বাংলাদেশি এবং এখানে মামলা হয়েছে তাই তাদের ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তে আরও কয়েকজন তরুণীকে পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। ভিকটিমের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

জানা গেছে, ভারতে বাংলাদেশী ওই তরুণীকে যৌন নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ মে) হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন মেয়ের বাবা। প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ থাকা মেয়েকে ভিডিও দেখে শনাক্ত করে মামলা করেন তিনি।

এর আগে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ জানায়, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের এক তরুণীকে ভারতের কেরালা রাজ্যে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ঢাকা হাতিরঝিলের রিফাদুল ইসলাম হৃদয় (২৬) নামে এক যুবকে শনাক্ত করে পুলিশ।।

Related posts

রাস্তায় মোটর সাইকেল রেখে রাইড শেয়ার সার্ভিস চালকদের বিক্ষোভ

admin

শ্রীমঙ্গলে র‍্যাবের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার!

admin

লকডাউনে গার্মেন্টসহ শিল্প কারখানা খোলা থাকবে

admin

Leave a Comment

Translate »