অগাস্ট ২, ২০২১
Welcome
আইন ও বিচার আন্তর্জাতিক খেলাধুলা জাতীয় ধর্ম ও জীবন বাংলাদেশ বিনোদন ব্রেকিং নিউজ ভিডিও নিউজ সাক্ষাৎকার

জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে বরগুনার পাথরঘাটাসহ আশেপাশের জনপদ

মোঃ রাব্বি | পাথরঘাটা প্রতিনিধি | বুধবার দুপুরে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে বরগুনার পাথরঘাটা সহ আশেপাশের জনপদ। ভেসগেছে মাছেরঘের,ডুবেগেছে আবাদি জমির উঠতিফসল , মসজিদ ,ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আর ঘরগৃহস্থালীসহ সব।

ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে মঙ্গলবার যখন নির্ঘুম রাত কাটছিলো উপকূলবাসীর ঠিক তখন-ই বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা জোয়ারের পানি দুর্বল বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যকেন্দ্র কাকচিড়া ও চরদুয়ানী বাজারদুটি মঙ্গলবার রাতের জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায়।এছাড়াও কাকচিড়া মাঝের চর প্লাবিত হয়। সমূদ্রের ফুলেফেঁপে ওঠা জলোচ্ছ্বাসে বুধবার দুপুরে সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়।

কাকচিড়া থেকে মোঃ শাহ আলী মোল্লা জানান, লঞ্চঘাট সঙলগ্ন বেড়িবাঁধ রাতেই ভেসেগেছে। বুধবার সকালে অতিরিক্ত পানি ওঠার মসজিদ, দোকানপাট , ঘরবাড়ি ও কাঁচামাল বাজার পানিতে তলিয়ে যায় কিন্তু দিনের আলোতে ব্যবসায়িরা তাদের কিছু মালামাল রক্ষা করতে পেরেছে ।আর মাঝে চর থেকে দুলাল মিয়া জানান, বেড়িবাঁধ অনেক স্থান থেকে ভেঙে যাওয়া পানিতে তলিয়ে যায় মঙ্গলবার সকালেই, তারপর দুপুরের পরে দিকে এলাকার লোকজন নিজেরাই বেড়িবাঁধের কিছু অংশ ঠিক করেছে কিন্তু বুধবার সকালে পানি ওঠার তাদের চর প্লাবিত হয়ে সব কিছু তলিয়ে যায়।

 

চরদুয়ানী বাজারের দোকানিরাও তাদের মালামাল দিনের আলোতে অন্যত্র সরিয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ি কবির হাওলাদার। জলোচ্ছ্বাসের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ছোটবড় অসংখ্য মাছের ঘেরের।

বেরিবাঁধের বাইরের সকল ঘের ভেসেগেছে বলে দাবী করছেন উপজেলার টেংরা এলাকার নাসিরউদ্দিন।চরদুয়ানী এলাকার তরুণ সমাজকর্মী শিমুল কীর্ত্তনিয়া ও বিপ্র সিকদার জানিয়েছে, তাদের গ্রামের ইন্দ্রজিদ হালদার বাড়ির একমাত্র খবারজলের পুকুরটি জোয়ারের জলে তলিয়ে গেছে। সেখানে এখন সুপেয়জলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বাইনচটকী ফেরীর গ্যাঙওয়ে ও সঙযোগ সড়ক ডুবে জেলা সদরের সঙ্গে সড়কযোগাযোগ বন্ধহয়েগেছে। পাথরঘাটা পৌরশহর সঙলগ্ন নবসৃষ্ট নিলিমপয়েন্ট পর্যটনকেন্দ্রের বেরিবাধ এবং সেখানকার সৌন্দর্যে নির্মিত রঙীন ব্লকগুলোর ক্ষতি হয়েছে।

পাথরঘাটার দক্ষিণের জনপদ নিজলাঠিমারা, জ্বিনতলা, পদ্মারভাঙ্গন এলাকার বেরিবাধ দিয়ে জোয়ারের জল ঢুকে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে।

ঝড়শুরু হওয়ার আগে মঙ্গলবার থেকে উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও মোবাইল নেট দুর্বল থাকায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা কোনো দপ্তরের কোনো কর্তাদের কিংবা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। তবে মাঠে দেখামিলছে সিপিবি’র সদস্যদের । তারা এইদূর্যোগে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানালেন তাদের একজন টিমলিডার।

আশ্রয়কেন্দ্রেগুলোতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের দেখামেলেনি। তারা অপেক্ষায় আছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উপর দিয়ে চলে যায়কিনি সেটি দেখার জন্য। তবে ঝড়ের তান্ডব আরও ক্ষিপ্র হলে সন্ধ্যের আগেই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আতঙ্কিত উপকূলবাসীর ঢল নামতে পারে বলে ধারনা করছেন অভিজ্ঞমহল।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সুলতানা জানিয়েছেন,১০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রয়েছে সুকনো খাবার ও পানিয।

এ উপজেলায় ইতিমধ্যেই ঝড়বাতাসের তান্ডবে অগনিত গাছ ভেঙে ও উপরে পরেছে। পানিবদ্ধ অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

Related posts

১৫ জুলাই থেকে চলবে ট্রেন, টিকেট পাবে অনলাইনে

admin

সিলেট মোগলাবাজারে কিশোরীর লাশ উদ্ধার

admin

বেপরোয়া ‘কিশোর গ্যাং

admin

Leave a Comment

Translate »