Welcome
জাতীয় নিউজ বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ

ময়মনসিংহ গৌরীপুরে কাদামাটিতে হচ্ছে কোটি টাকার সড়ক

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার || কাঁচা রাস্তায় গ্রামের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করছে। পাকা সড়ক হচ্ছে খবরে আনন্দ বইছিল গ্রামে। কিন্তু রাস্তা নির্মাণে বালুর পরিবর্তে কাদামাটির ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এমন ঘটনা ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ঘটেছে। সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষকে সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ধুরুয়া বাজার, তেরশিরা বাজার, নিমতলী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জের ভাতরী বাজার এলাকায় চলাচল করতে অসহ্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল মানুষ। বর্ষায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের। প্রায় ৪ হাজার ২৫০ মিটারের সড়কটি পাকাকরণের কাজ শুরু হয় মার্চে। প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণকাজ পায় মেসার্স সাইল ব্রিকস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কটির নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)।

মার্চের প্রথম সপ্তাহে সড়কটিতে বক্স কাটা ও বালু ভরাট করার কাজ শুরু হয়। কয়েকদিন ধরে সড়কটির তেরশিরা অংশে বালুর পরিবর্তে ড্রেজার দিয়ে পুকুর থেকে তোলা কাদামাটি ব্যবহার শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ শুরু হয়। কী কী ধরনের কাজ হবে সড়কটিতে সেই তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড টানানো হয়নি প্রকল্প এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকার লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসন্তোষের কথা জানিয়ে লাইভ ভিডিও প্রকাশ করে। পরে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারী। ওই সময় পুকুর থেকে ড্রেজিং করা কাদামাটি ‘ভালো বালু’ বললে সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়েন তারা। এক ফুট করে বালু থাকার পরিবর্তে কোদাল দিয়ে খুঁড়ে কাদামাটি, না বালু তা প্রকৌশল দপ্তরের প্রতিনিধিদের দেখানোর চেষ্টা করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় শামীম মিয়া, আবদুল করিম, মিলন মিয়াসহ বেশ কয়েকজন বলেন, রাস্তার অনেকাংশে বালু ফেলা হলেও তাদের এলাকায় কাদামাটি ফেলা হচ্ছে। সঠিকভাবে রাস্তাটি যেন করা হয় সেই দাবি তাদের। মকবুল হোসেন বলেন, রাস্তায় কী কী কাজ হবে তার কোনো সাইনবোর্ড নেই। কাজ হচ্ছে যাচ্ছেতাইভাবে। বালুর পরিবর্তে যা ফেলা হচ্ছে তাতে ৪০ ভাগ মাটি রয়েছে। এর মধ্যে রাস্তা পাকা করা হলে তা দ্রুত ফেটে যাবে।

রামগোপালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সিকদার বলেন, এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক। সরকারি কোটি টাকার রাস্তা যাচ্ছেতাইভাবে করে যাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়কটি যেন সঠিকভাবে করা হয় কর্তৃপক্ষের কাছে সে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

ঠিকাদার মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আতিয়ার রহমান বলেন, ঠিকাদার শম্ভুগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করে ভালো বালু ফেলছিল। কিন্তু এলাকার কিছু লোক রাস্তা দিয়ে ট্রাক প্রবেশ করতে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় বিকল্প হিসেবে পুকুর থেকে ড্রেজিং করা বালু ফেলা হচ্ছে। সেগুলোও ভালো। প্রকল্পের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ডও দ্রুত স্থাপন করা হবে।

গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, বালু পরীক্ষা করে দেখা হবে। যদি খারাপ হয় তাহলে সরিয়ে ফেলা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসান মারুফ বলেন, রাস্তাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। যথাযথভাবে নির্মাণকাজ করতে এলজিইডিকে বলা হয়েছে। তারা সঠিকভাবে কাজ না করলে বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে।

Related posts

ভাসানচর পৌছালো আরও ১ হাজার রোহিঙ্গা

admin

একদিনে টিকা পেলেন ২৮ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ

admin

আরও ৮ লাখ টিকা আসছে শনিবার

admin

Leave a Comment

Translate »