অগাস্ট ৩, ২০২১
Welcome
জাতীয় নিউজ বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ

আজ ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস

একুশের আলো ডেস্ক : আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ নেয় মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব নগর সরকার। এরপরই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ প্রবল রূপ নেয়। মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।

১৯৭১ এর ১৭ই এপ্রিল। সেদিন ছিলো শনিবার। মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আমবাগানে চৌকি পেতে তৈরি করা হয় মঞ্চ। সেই চৌকির ওপর দাঁড়িয়ে শপথ নেয় ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার

শপথ অনুষ্ঠানের কথা জানতে পারলে বিমান হামলা চালাতো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সেই ঝুঁকি নিয়েই বেলা ১১ টায় শুরু হয় শপথ অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক।

৪৫ মিনিটের অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংঙ্গীত। মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা তোলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের চিফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

১২টি মন্ত্রণালয় নিয়ে গঠিত সরকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে করা হয় মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার।

মুজিবনগর সরকারের শপথের দিন ১২ জন আনসার সদস্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন জানান, নতুন রাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বীকৃতি দান ও সামরিক সাহায্যের।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এই স্থানের নাম ‘মুজিবনগর’ নামকরণ করেন। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত মুজিবনগর ছিল সরকারের রাজধানী।

সাংবাদিকদের প্রধান প্রশ্ন ছিল সরকারের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোথায়? জবাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। তার সঙ্গে আমাদের চিন্তার (বিস্তর) যোগাযোগ রয়েছে।’

মুজিবনগর সরকারের এই প্রকাশ্য শপথগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধকে নতুনভাবে পরিচিত দেয়। এই শপথের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে একটি দেশের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়। মুক্তিযুদ্ধের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে এই সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।

Related posts

শনিবার থেকে চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েটে সমন্বিত ভর্তির আবেদন শুরু

admin

আজ থেকে কাউন্টারে মিলবে ট্রেনের টিকিট

admin

তালতলীতে এক সাংবাদিক পরিবারকে অবরুদ্ধ ও প্রাননাশের হুমকি

admin

Leave a Comment

Translate »