অগাস্ট ৩, ২০২১
Welcome
জাতীয় বাংলাদেশ বিনোদন ব্রেকিং নিউজ

নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে রেলের টিকিট বিক্রি

একুশের আলো ডেস্ক : প্রতিদিনই নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে টিকিট বিক্রি। ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তিও।

সোমবার (২২ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অচল ছিল রাজশাহী রেল সে্টশনের টিকিট কাউন্টার। এতে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, চিলাহাটিগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, রহনপুরগামী কয়েক শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিকেট না পেয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এদিকে নেটওয়ার্ক সিস্টেম ফেইলরের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ দায়ী করছে বেসরকারি সংস্থা সিএনএস কোম্পানিকে। আর সিএনএস দুষছেন ডাটা প্রোভাইডার কোম্পানি এম্বার আইটি নামক প্রতিষ্ঠানকে।

নেটওয়ার্ক সমস্যার বিষয়ে রেলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি কোম্পানি সিএনএস-এর সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সিএনএস কোম্পানির সঙ্গে নেটওয়ার্ক ফেইলরের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত ইন্টারনেট প্রোভাইডার কোম্পানির এম্বার আইটি থেকে আমরা নেট সেবা নিয়ে থাকি। কিন্তু কয়েকদিন যাবৎ তাদের হেড অফিসে সমস্যা হয়েছে। যার কারণে নেট সেবা ঠিকমত পাচ্ছি না। মূলত এ কারণেই টিকিট বিক্রিতে সমস্যা হচ্ছে।’

তবে প্রায় প্রতিদিনই এমন হচ্ছে জানালে তিনি অস্বীকার করে বলেন, শুধু আজকেই আড়াই ঘণ্টার মত নেটওয়ার্ক ছিল না। তবে আগে মাঝে মধ্যে এমন সামান্য সমস্যা হয়েছে।

সোমবার (২২ মার্চ) স্টেশনে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা একাধিক বুকিং সহকারী জানান, সিএনএস কোম্পানি জেনে শুনে খারাপ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের সেবা নিচ্ছে। এতে যাত্রীদের সময়মত টিকিট না দিতে পারায় গাল-মন্দ শুনতে হচ্ছে আমাদের। এছাড়া, চাহিদা সাপেক্ষে টিকিট বিক্রি না হওয়ায় রেলের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক কর্মচারী বলেন, ‘সোমবার ৩ ঘণ্টা নেটওয়ার্ক ছিল না। প্রায় প্রতিদিনই ১০-১৫ মিনিট, এমনকি আধা ঘণ্টা নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকে। এর মূল কারণই হচ্ছে নিম্নমানের নেট ব্যবহার।

খুলনা যেতে স্টেশনে আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন-২ এর কর্মচারী নূর কুতুবুল। তিনি কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন।

তিনি আক্ষেপ জানিয়ে বলেন, ‘জরুরি ছুটি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলাম। কিন্তু সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি।

চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রী আশিকুর রহমান বাবু রাজশাহী এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য। স্বজন নিয়ে বাড়ি ফিরতে স্টেশনে আসেন। কিন্তু টিকিট না পাওয়ায় পড়েন ভোগান্তিতে।

যাত্রী ভোগান্তির বিষয় স্বীকার করে রাজশাহী রেল স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘এসব আইটির কাজ। এসব আমার তেমন জানা নেই। তবে সিএনএস-এর সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারের কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে, তারা যে নেট ব্যবহার করে সেখানে ঢাকায় কী যেন সমস্যা হয়েছে। তাই কিছুদিন ধরে এমন সমস্যা হচ্ছে।

যাত্রী ভোগান্তি এড়াতে ও সমস্যা সমাধানে করণীয় জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এ সমস্যায় পড়লে আমরা অতিরিক্ত টিটি ও টিসি বাড়িয়ে দেই। এ ক্ষেত্রে তারা উপস্থিত যাত্রীদের টিকিট বিক্রি করে সেবা দিয়ে থাকেন। তবে এখানে দুটো সমস্যা হয়। এক-টিটি ও টিসি অতিরিক্ত ভাড়া ছাড়া টিকিট কাটতে পারে না। দুই-তারা সিট বরাদ্দ দিতে পারে না।

Related posts

চার পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু

admin

সাংবাদিক ফোরাম থেকে মাসুম বিল্লাহর পদত্যাগ

admin

রাজধানীতে কিশোর গ্যাং ‘সেজান গ্রুপে’র ৯ সদস্য আটক

admin

Leave a Comment

Translate »