অগাস্ট ৩, ২০২১
Welcome
জাতীয় বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ

শেষ হয়নি মেলার সব প্রস্তুতি, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

শাহবাজ জামান : মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রায় দেড় মাস পর শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১০ মার্চ) মেলা শুরুর দ্বিতীয় দিন ছিলো। তার পরেও শেষ হয়নি মেলার সব প্রস্তুতি।

এদিকে, মেলায় প্রবেশের পর স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেকের।

বৃহস্পতিবার বিকালে মেলার প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, এখনো মেলার অনেক স্টল ও প্যাভিলিয়নের অনেক কাজ বাকী। অনেক স্টলের কাজ এখনো ঠিকমতো শুরুই হয়নি। ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা না করায় মেলা প্রাঙ্গণে ধুলা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

আবার খাবার দোকান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার কাজও এখনো চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মেলার সদস্য সচিব জালাল আহমেদ কে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, মেলায় পাঠক, প্রকাশক ও স্টলে কর্মরত কর্মচারীরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ অনেকের।

বইমেলা সংশ্লিস্টরা জানিয়েছে, মেলার ভিতরে প্রবেশের পূর্বে সবাই মাস্ক পড়ে মেলায় প্রবেশ করছে।

কিন্তু প্রবেশের পর পাঠক, স্টল কর্তৃপক্ষ, মাস্ক খুলে ফেলে দিচ্ছে বা পকেট বা ব্যাগে রেখে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেককে মেলায় মাস্ক পড়তে দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকে স্টল কর্মচারীদের মুখে মাস্ক নাই। মাস্ক পড়তেও তারা অনীহা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে কালী কলম প্রকাশনীর এক কর্মচারী বলেন, মাস্ক পড়তে আমার সমস্যা হয়। তাই মাস্ক পড়ি না। আমি নিজেই স্বাক্ষর করেছি আমি মাস্ক পড়ে বইমেলায় আসবো কিন্তু একদিনও মাস্ক নিয়ে আসিনি।

এদিকে, শুক্রবার সপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো। সপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলায় অন্যান্য বছর যে বিক্রি বা পাঠকের যাতাযাত থাকতো তা এ বছরের বইমেলায় দেখা যায়নি। শুক্রবার মেলা শুরু হয় সকাল ১১ টায়।

প্রকাশকরা জানিয়েছে, শুক্রবার সকালের দিকে মেলায় পাঠক ছিলোনা বললেই চলে। দুপুরের পর থেকে পাঠক আসতে শুরু করে।

তবে, অন্যান্য বছরের তুলনায় তা খুবই কম ছিলো।

এ বিষয়ে বাংলা একাডেমীর কর্মচারী জাকির হোসেন বলেন, মেলা এখনো জমেনি। সকালে তেমন পাঠক ছিলোনা। বিকালে পাঠক কিছু আসছে। এক সপ্তাহ গেলে বুঝতে পারবো মেলা কেমন হবে।

মেলার আয়োজনে পাঠকরাও খুশি নয় বলে তারা জানিয়েছে। পাঠকরা জানায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের সাউন্ড সিস্টেম, মেলার প্রাঙ্গন সাজানো তাদের পছন্দ হয়নি। তাছাড়া মেলা গরমের সময় শুরু হওয়ায় ধুলা ময়লা তো থাকছেই।

এ বিষয়ে মেলায় ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরমান বলেন, এখনো হাতুরি পিঠার শব্দ শুনতে পাচ্ছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় সাউন্ড সিস্টেম বাজে, বিশাল স্পেস ঘুরতে সমস্যা হচ্ছে।

শনিবার অনুষ্ঠানসূচি: শনিবার অমর একুশে বইমেলার তৃতীয় দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আবুল কাশেম এবং আবদুল মান্নান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুভাষ সিংহ রায়।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

এসময় আলোকচকবৃন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ১৯৭১-এ প্রদত্ত ১৮ মিনিটের ভাষণটি তাঁর স্বভাবসুলভ তাৎক্ষণিক বক্তব্য ছিল, পূর্বে তৈরি করা বক্তৃতা নয়। এটি মূলত রাজনীতির কবিতা।

এর মহত্ত্ব ও বিরাটত্বের কারণে ২০১৭ সনের অক্টোবরে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অসাধারণ ভাষণটিকে পৃথিবীর অন্যতম ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ভাষণটির অসাধারণত্ব, এর স্বতঃস্ফূর্ততা, নির্ভীকতা, সম্যক উপলব্ধি ও তেজস্বী উচ্চারণ প্রকৃতপক্ষে বাঙালি জনগণের প্রথমবারের মতো স্বাধীনতার চরম ও পরম আকাক্সক্ষাকে বাক্সময় করে তোলে।

সামগ্রিক বিচারে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি স্বাধীনতাকে সংজ্ঞায়িত করেছে, চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা অর্জনের দিকনির্দেশনা দিয়েছে, প্রকাশ করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের রূপরেখা। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর বলিষ্ঠ প্রত্যয় আছে এ ভাষণের বাক্যগুলোর অন্তরে অন্তরে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বলিষ্ঠ ঘোষণা। এই ভাষণ মূলত বিন্দুতে সিন্ধু। মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনার এ ভাষণের মধ্য দিয়ে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা আসন্ন মুক্তির যুদ্ধে উপনীত

জাতিকে সুসংগঠিত করেন এবং বিজয়ী প্রত্যয়ের প্রেরণা দেন। বস্তুত এ ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন রঞ্জনা বিশ্বাস, আশরাফ জুয়েল এবং মঈনুল হাসান।

 

Related posts

পুলিশকে ‘ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার‘ দেয়ার পরিকল্পনা

admin

লকডাউন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে র‍্যাব

admin

বরগুনায় হরিণের মাংসসহ শিকারী আটক ১

admin

Leave a Comment

Translate »