Welcome
আন্তর্জাতিক জাতীয় বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ

মশার দখলে রাজধানী , উপদ্রব দ্রুত নিরসন হবে আশাবাদ ডিএসসিসির

একুশের আলো রিপোর্ট || হঠাৎ করেই রাজধানীজুড়ে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। ফুটপাত, বাসা-বাড়ি, অফিস কোথাও মশা থেকে রেহাই পাচ্ছে না নগরবাসী। মশারি, কয়েল আর স্প্রে কাজে আসছে না। মশার উপদ্রব জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে। নগরবাসীর অভিযোগ, ঘরে-বাইরে কোথাও স্বাভাবিক কাজকর্ম করা যাচ্ছে না। ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশকনিধনে জোর তৎপরতা চালানোর দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিস মশা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিউলিক্স মশার ভনভন শব্দ আর কামড় নগরজুড়ে মানুষের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এডিস মশার মতো ভয়াবহ না হলেও এ মশার কামড়ে অনেক সময় গোদরোগ হয়। এটি হলে হাত-পা ফুলে শরীরের বিভিন্ন স্থান বড় হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, যেকোনো উপায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এখনই মশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া না হলে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মশার ঘনত্ব বেড়ে চরমে পৌঁছাবে। এমনকি অতীতের ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। মশার উপদ্রবে ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মনে। ২০১৯ সালে দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় লক্ষাধিক মানুষ। এতে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। সে সময় দুই সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি) মশকনিধন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনাও হয়। মশা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কিউলেক্স মশার প্রজনন মৌসুম। প্রতি বছরের এ সময় মশার আধিক্য দেখা যায়। তারপরও এবার অস্বাভাবিক হারে মশা বৃদ্ধির দায় সিটি কর্পোরেশন এড়াতে পারে না। সময় মতো কার্যকরী ওষুধ না ছিটানোয় মশার বিস্তার বেড়েছে। নগরবাসী বলছে, মশকনিধনে সিটি কর্পোরেশন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয় না। লোক দেখানোর জন্য মাঝেমধ্যে ধোঁয়া উড়িয়ে চলে যায়। ধোঁয়া শেষ হলে আবার মশা উড়তে শুরু করে। অনেকেই আবার মশককর্মীদের দেখাও পান না। ডেমরাসহ দুই সিটি কর্পোরেশনের নতুন সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলোতে মশার অবস্থা আরও ভয়াবহ। অনেক এলাকার বাসিন্দারা দিনের বেলায়ও মশারি বা কয়েল ছাড়া ঘুমাতে পারেন না।

উত্তরা এলাকার বাসিন্দা লুৎফুন্নাহার বলছেন, ফগার মেশিনে মশার ওষুধ ছিটালে ড্রেনে বা বাইরে থাকা মশাগুলো ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে মশাগুলো রাস্তা থেকে তাড়িয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুরান ঢাকার নারিন্দা এলাকার আশরাফ হোসেন বলেন, মশা মারার জন্য ধোঁয়া উড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। এসব ধোঁয়া উড়িয়ে আসলে কোনো লাভ হয় না। নগরীর রাস্তাঘাট, ড্রেন, নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার করলে এমনিতেই মশা কমে যেতো।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, সকলের সমন্বিত উদ্যোগে এডিস মশার ন্যায় কিউলিক্স ও অ্যানোফিলিসসহ অন্যান্য প্রজাতির মশানিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দুই সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই কীটনাশক দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে মশার সেটাতে সহনশীল হয়ে যায়। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মশানিধনে কার্যকর ঔষধ ক্রয়ের পাশাপাশি তদারকি বৃদ্ধির জন্যও তাগিদ দেয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ যেভাবে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করে মশার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এনেছে, ঠিক সেভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন এলজিআরডিমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়েদুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিনে বনানী লেকের আশপাশ এলাকায় ফলোআপ করেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এই সিস্টেমটি কাজে আসছে। এখন আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। শিগগিরই যেসব স্থানে মশককর্মীরা ওষুধ ছিটাতে পারছেন না সেসব স্থানে ড্রোন কাজ করবে। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জলাশয় থেকে মশার বিস্তার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেসব জলাশয়ে সনাতন পদ্ধতিতে ওষুধ ছিটানো সম্ভব হচ্ছে না, সেসব জায়গায় ড্রোনের সাহায্যে কীটনাশক ছিটানো হবে। দেশীয় তৈরি ড্রোন দিয়ে প্রতি মিনিটে পাঁচ লিটার ওষুধ ছিটাতে সক্ষম হবে। এই উদ্যোগ সফল হলে অল্প সময়ে মশানিধন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রায় সব এলাকায়ই মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিআইপি এলাকা থেকে শুরু করে বস্তিতেও মশার আধিপত্য। সিটি কর্পোরেশন যেসব ওষুধ প্রয়োগ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কর্পোরেশন যে ওষুধ ছিটাচ্ছে, এতে মশানিধন হচ্ছে না, বরং বায়ুদূষণ হচ্ছে। ফগার মেশিন নিয়ে শুধু বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়া সৃষ্টি করছেন মশককর্মীরা। এর কোনো কার্যকরী ফল মিলছে না।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্য বছরের তুলনায় এবার ঢাকায় মশা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় চারগুণ। কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষক অধ্যাপক ডক্টর কবিরুল বাশারের গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার উত্তরা, খিলগাঁও, শনির আখড়া, শাখারিবাজার, মোহাম্মদপুর ও পরীবাগে প্রতিটি ডিপে (মশার ঘনত্ব বের করার পরিমাপক) গড়ে ৬০টির বেশি মশা পাওয়া গেছে। যা এ পর্যন্ত সর্বাধিক। বছরের অন্য সময়ে যার সংখ্যা ছিলো ১৫ থেকে ২০টির মধ্যে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, গত কয়েক বছর এক ধরনের ওষুধ ছিটিয়ে আসছে সিটি কর্পোরেশন। এই ওষুধ মশার অনেকটা সহনীয় হয়ে গেছে। ফলে নিয়মিত ওষুধ ছিটালেও তেমন একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এখন ওষুধের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মশানিধনে ওষুধের মান বারবার পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যখনই মশক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহূত ওষুধের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাই, সঙ্গে সঙ্গে তা পরীক্ষা করানো হয়। আমরা এতবার পরীক্ষা করাই যে, সবাই অতিষ্ঠ হয়ে যায়। ডেঙ্গুর জন্য যে ওষুধ প্রয়োগে সুফল পাওয়া যায়, কিউলেক্স মশার জন্য তা কার্যকর হয় না। সেজন্য আমরা ওষুধ পরিবর্তন করছি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন ওষুধ চলে আসবে। সেটা আমরা কিউলেক্স মশার জন্য ব্যবহার করবো। কিউলেক্স মশার উপদ্রব বাড়ার যে অভিযোগ আসছে, সেটা নিরসন হবে।

Related posts

গণপরিবহণ নিয়ে নতুন নির্দেশনা!

admin

পাথরঘাটায় নৌকা মনোনীত প্রার্থীরা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে রুমকিকে চান

admin

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ১০ কোটি টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

admin

Leave a Comment

Translate »